মল্লিকা ফুলের গল্প
মল্লিকা গ্রামে জন্মানো একটি ছোট্ট মেয়ে। তার নাম রাখা হয়েছিল মল্লিকা কারণ সে যখন জন্মেছিল, তখন তার ঘরটি মল্লিকা ফুলের সুগন্ধে ভরে গিয়েছিল। মল্লিকা গ্রামের নাম না জানা এক কুঁড়েঘরে বাস করত, তার পরিবার ছিল খুবই দরিদ্র, কিন্তু তাদের হৃদয় ছিল ভালোবাসায় পূর্ণ।
মল্লিকা ছোট থেকেই খুবই কৌতূহলী ছিল। সে চারপাশের সবকিছু জানতে চাইত, দেখতে চাইত। গ্রামের চারপাশে ঘুরে বেড়ানো, গাছপালার সাথে কথা বলা ছিল তার প্রতিদিনের কাজ। বিশেষ করে মল্লিকা ফুলের প্রতি তার ছিল এক অদ্ভুত টান। সে মল্লিকা ফুলের গাছগুলোর সাথে কথা বলত, তাদের কাছে তার ছোট্ট মনোভাব প্রকাশ করত। সে বিশ্বাস করত যে মল্লিকা ফুলের গাছগুলি তার কথা শুনে। মল্লিকা ফুলের গন্ধ, রং, ও নরম পাপড়ি তাকে সবসময় আকর্ষণ করত।
মল্লিকার বাবা-মা তাকে ভালোবাসায় ভরিয়ে রাখতেন, যদিও তারা আর্থিকভাবে দুর্বল ছিলেন। তারা সবসময় চাইতেন মল্লিকা বড় হয়ে সুখী হোক, তার স্বপ্ন পূরণ হোক। কিন্তু গ্রামের জীবন ছিল কঠিন। মল্লিকার বাবা একজন কৃষক ছিলেন এবং মাটি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
একদিন মল্লিকা তার মা-বাবার জন্য কিছু করতে চেয়েছিল। সে ভাবতে লাগল, কীভাবে সে তাদের সাহায্য করতে পারে। হঠাৎ তার মনে হলো, মল্লিকা ফুল দিয়ে সে কিছু করতে পারে। সে জানত, মল্লিকা ফুলের সুগন্ধ অনেকেই পছন্দ করে, আর এই ফুল দিয়ে অনেক সুন্দর কিছু তৈরি করা যায়।
মল্লিকা তার গ্রামের আশপাশে থাকা সব মল্লিকা ফুলের গাছ থেকে ফুল সংগ্রহ করতে শুরু করল। সে ফুলগুলি দিয়ে ছোট ছোট মালা তৈরি করল, তারপর সে ভাবল, কীভাবে এগুলো বিক্রি করা যায়। গ্রামের মানুষদের সাথে কথা বলে সে জানতে পারল, পাশের শহরের বাজারে মল্লিকা ফুলের মালার চাহিদা আছে।
মল্লিকা খুব খুশি হলো। সে সিদ্ধান্ত নিল, সে তার ফুলের মালা শহরে গিয়ে বিক্রি করবে। তার মা-বাবার কাছে অনুমতি নিয়ে সে একদিন সকালে শহরের পথে রওনা দিল। শহরে পৌঁছে সে দেখতে পেল, সেখানে অনেক মানুষ আছে, আর বাজারে প্রচুর ফুলের দোকান রয়েছে। সে একটু ভয় পেল, কিন্তু নিজের মনকে শক্ত করে সে তার মালা নিয়ে একটি ছোট্ট দোকানের সামনে দাঁড়াল।
দোকানের মালিক একটি বয়স্ক মহিলা, তিনি মল্লিকাকে দেখে হাসলেন। মল্লিকা তার মালার গন্ধ পেয়েই বুঝতে পারল, মহিলাটি তার মালা পছন্দ করবেন। মহিলা মল্লিকার কাছে এসে বললেন, "তুমি এত সুন্দর মালা কোথা থেকে পেলে?" মল্লিকা তখন তার সংগ্রহ করা মল্লিকা ফুলের গল্প শোনাল। মহিলাটি মুগ্ধ হয়ে তার সব মালা কিনে নিলেন এবং তাকে আরও মালা বানানোর আদেশ দিলেন।
মল্লিকা ফিরে এসে নতুন উদ্যমে আরও মালা তৈরি করল। প্রতিদিন সকালে সে শহরে যেত, মালা বিক্রি করত এবং সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে আসত। তার উপার্জন বাড়তে লাগল, আর সে তার পরিবারকে সাহায্য করতে পারল।
এইভাবে মল্লিকা ধীরে ধীরে তার নিজের ব্যবসা শুরু করল। সে একটি ছোট্ট দোকান খুলল, যেখানে সে নিজে মালা তৈরি করে বিক্রি করত। তার মা-বাবা তার উপর খুবই গর্বিত হলেন। গ্রামের মানুষও মল্লিকার সফলতায় খুশি হল।
কিছুদিন পর মল্লিকার দোকানটির নাম ছড়িয়ে পড়ল। সবাই তার দোকানে আসতে শুরু করল মল্লিকা ফুলের মালা কিনতে। তার ব্যবসা বাড়তে থাকল, আর সে আরও বেশি ফুল কিনতে শুরু করল, যাতে সে আরও বড় পরিসরে কাজ করতে পারে।
মল্লিকার গল্প সবার কাছে একটি অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়ালো। তার অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম, এবং ভালোবাসা তাকে জীবনের সাফল্যের পথে নিয়ে গেল। মল্লিকা ফুল তার জীবনের সাথে জড়িয়ে গেল, এবং তার গল্পটি হয়ে উঠল একটি সুন্দর উদাহরণ, যা সবাইকে শেখায় যে ছোট ছোট পদক্ষেপও আমাদের বড় স্বপ্ন পূরণ করতে পারে।
.jpg)
.jpg)
.jpg)
.jpg)
Comments
Post a Comment